
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন করে সাজানো হচ্ছে। চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশনের পদত্যাগের পর এখন ব্যবসায়ী, হিসাববিদ ও আইনজীবী মিলিয়ে একটি নতুন নেতৃত্ব কাঠামো গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং চার কমিশনার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপরই নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে একটি বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ পর্যায়ের অভিজ্ঞ করপোরেট ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে দেশের শীর্ষ করপোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খান সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
বর্তমানে তিনি ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে ১৮ বছর এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রায় ২০ বছর দায়িত্বে ছিলেন।
একই সঙ্গে নতুন কমিশনে বৈচিত্র্য আনতে একজন নারী আইনজীবী, একজন পেশাদার হিসাববিদ এবং একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধি কমিশনার হিসেবে যুক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে।
সূত্র বলছে, নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বিএসইসি কার্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেন। একই দিনে পদত্যাগপত্র গ্রহণ ও নতুন নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগ কার্যকর এবং নতুন নিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা, দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমানো এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকারিতা শক্তিশালী করা।
এর আগে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাজার ছিল চ্যালেঞ্জের মধ্যে। কমিশন তখন থেকে কাঠামোগত সংস্কার, নতুন বিধিমালা প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়।
তিনি জানান, গত প্রায় ২১ মাসে মার্জিন ঋণ, আইপিও, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র এবং হুইসেলব্লোয়ার সংক্রান্ত একাধিক বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স ও অডিটসহ বিভিন্ন বিষয়ে খসড়া নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে।
তবে এই সময়জুড়ে বাজারে ধারাবাহিক দরপতন, লেনদেন কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত ছিল। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে লেনদেন কমে যাওয়া এবং শেয়ারের দাম দীর্ঘদিন নিম্নমুখী থাকায় বাজারে চাপ আরও বাড়ে। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে।