
চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত জমে থাকা রফতানি প্রণোদনার সব আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একসঙ্গে বিপুল অঙ্কের এই অর্থ ছাড়কে রফতানি খাতের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (১৬ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জমা হওয়া ‘ক্যাশ ইনসেনটিভ’ বা রফতানি নগদ সহায়তার সব আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রণোদনা পেয়েছে দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প। এই খাতেই ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বেশি নগদ সহায়তা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অর্থ দেওয়া হয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানিকারকদের মধ্যে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হওয়ায় তৈরি পোশাক খাতই মোট প্রণোদনার বড় অংশ পেয়েছে। এতে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, দেশের রফতানি আয়ের মূল ভরসা এখনও তৈরি পোশাক শিল্প।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সময়মতো রফতানি প্রণোদনার অর্থ ছাড় হলে রফতানিকারকদের নগদ প্রবাহ সচল থাকে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম ধরে রাখা সহজ হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও বাড়ে। বৈশ্বিক বাজারে চাপের মধ্যে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই ধরনের নগদ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও মনে করছেন তারা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, রফতানি প্রণোদনা বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। যাতে রফতানিকারকেরা নির্ধারিত সময়ে তাদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রফতানি খাতে নগদ সহায়তা দ্রুত পরিশোধের এই উদ্যোগ শিল্প উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সামগ্রিক রফতানি প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।