
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্টিক টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
এর মধ্যে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) এবং ১ লাখ টন ডিজেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা হবে। বাকি ৬০ হাজার টন ডিজেল কেনা হবে জিটুজি ভিত্তিতে ইন্দোনেশিয়া থেকে।
মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এ সংক্রান্ত তিনটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড (ইএমকেআই) থেকে ১ লাখ টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম সালফার মানমাত্রার ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এ তেল কেনা হবে।
একই পদ্ধতিতে ‘আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটস’-এর কাছ থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল কেনারা প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জিটুজি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন) থেকে ৬০ হাজার টন গ্যাস অয়েল ০.৫ শতাংশ ‘এস’ (ডিজেল) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহের লক্ষ্যে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
যা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়
এদিকে বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ হংকং-এর ফালকো করপোরেশন লিমিটেড থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল কেনার আর একটি প্রস্তাব নিয়ে আসে। তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠক থেকে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আর্চার এনার্জি এলএলসি থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল কেনার আর একটি প্রস্তাবও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি-এর নিকট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে ১ লাখ মেট্রিক টন ৫০ পিপিএম সালফার মানমাত্রার ডিজেল কেনার আর একটি প্রস্তাব আনা হলেও, সেটিও আলোচনা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।