
দেশে জ্বালানি তেল কেনায় আর থাকছে না কোনো সীমাবদ্ধতা। সরকার রোববার (১৫ মার্চ) থেকে জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত রেশনিং পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে তুলে নিয়েছে। ফলে আজ থেকে সব ধরনের যানবাহন আগের মতোই নির্দিষ্ট কোনো সীমা ছাড়াই জ্বালানি তেল কিনতে পারবে।
এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করে। সেই প্রেক্ষাপটে গত ৬ মার্চ থেকে সারা দেশে যানবাহনের জন্য তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে সরকার।
রেশনিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় সরকারের নির্দেশনায় মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২ লিটার তেল বরাদ্দ করা হয়েছিল। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লিটার তেলের সীমা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কন্টেইনার ট্রাকের জন্য প্রতিদিন ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর সরকার ধাপে ধাপে এ বিধিনিষেধ শিথিল করে। রাইডশেয়ারিং চালকদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মোটরসাইকেলের তেল বরাদ্দ ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়। একই সঙ্গে সামগ্রিক রেশনিং হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।
সবশেষে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় সরকার রেশনিং পদ্ধতি পুরোপুরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে এখন থেকে আগের নিয়মে কোনো নির্দিষ্ট সীমা ছাড়াই দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে।