
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীদের টানে অটোরিকশা থেকে পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন সন্দেহভাজন আসামির প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার মূল হোতাদের শনাক্ত করতে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদুল হাসান রিয়াল।
রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে আসামি পনিরের পক্ষে আইনজীবী আমির উদ্দিন আমিরসহ অন্য আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। গত ২৯ আগস্ট ভোরে স্বামী মো. আবদুল মতিনকে সঙ্গে নিয়ে চোখের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটসংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন ছিনতাইকারী রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয়। ছিনতাইকারীদের টানে চলন্ত অটোরিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় রনজিলার স্বামী মো. আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর গত রোববার র্যাব-২ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা স্মার্টফোন, নগদ টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
আদালতে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় এখন জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ছিনতাই ও মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে আরও তথ্য বের করার চেষ্টা করবে তদন্তকারী সংস্থা।