
গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথায় পেপার ওয়েট নিক্ষেপের ঘটনায় অভিযুক্ত বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজন মিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়েছে। তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (সিভিল জজ) হিসেবে প্রেষণে পদায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই, ২০২৬) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ (বিচার শাখা-১) থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপপরিচালক (প্রশাসন-১) এ. এফ. এম. গোলজার রহমান স্বাক্ষর করেন। এতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে গোপালগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজন মিয়াকে (আইডি: ২০২৪২১৬০৬২) অবিলম্বে বর্তমান পদের দায়িত্বভার অর্পণ করে আইন ও বিচার বিভাগে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২২ জুলাই, ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ২ নম্বর এজলাসে বিচারকাজ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। আদালতকক্ষে উপস্থিত লোকজনের শোরগোল নিয়ে উত্তেজনার একপর্যায়ে বিচারক নিজের টেবিলে থাকা একটি পেপার ওয়েট ছুড়ে মারেন। সেটি গিয়ে আঘাত হানে মামলার নথিপত্র দেখছিলেন এমন শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায়। এতে তিনি আহত হন।
ঘটনার পর সহকর্মীরা সাবিহা সুলতানাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরে গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি বিষয়টি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত বিচারকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে বদলির আদেশ জারি করা হয়।