
দীর্ঘ ১৪ বছরেও শেষ হয়নি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত। আবারও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়েছে আদালত। নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৭ আগস্ট। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১২৮তম বারের মতো পিছিয়ে গেল।
বুধবার, ২২ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে না পেরে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সময় বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করেন। পরে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের পরিচিত তানভীর রহমান খান। তাদের মধ্যে তানভীর রহমান খান জামিনে রয়েছেন। পলাশ রুদ্র পাল জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক। অন্য আসামিরা কারাগারে আছেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি হ.ত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হ.ত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশ। চার দিন পর দায়িত্ব যায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। পরে দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ টাস্কফোর্স গঠন করে।