
আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রণীত ও সংশোধিত আইনেই দলটির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলটির বর্তমান আইনি অবস্থান তাদের ক্ষমতায় থাকাকালেই করা আইনগত ব্যবস্থার ফল।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তার ভাষ্য, এই দুই আইনের যেকোনো একটিতে কোনো সংগঠন দোষী সাব্যস্ত হলে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে সেটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। পাশাপাশি রাষ্ট্র ওই সংগঠনের সম্পদ জব্দ করাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে যে আইনি বিধানগুলো প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেগুলোর বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়েছে। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে ২০১৩ সালে সংশোধনের মাধ্যমে ‘সংগঠনকে’ বিচারের আওতায় আনা হয়। এছাড়া ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন এবং ২০১১ সালে সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ সংশোধনও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ধারা ব্যবহার করেই আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল। ফলে বর্তমানে একই আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া আইনগতভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।
আইনগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, এমন অভিযোগ নাকচ করে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, কোনো আইন পরে কার বিরুদ্ধে প্রয়োগ হচ্ছে, সেটির ভিত্তিতে আইনকে অবৈধ বলা যায় না। তার মতে, অপরাধ হলো আইনের অপব্যবহার বা আইন ভঙ্গ করা, আইন প্রণয়ন নয়।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংকুচিত করা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে অর্থ পাচার ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ববিরোধী কর্মকাণ্ডও কোনো সংগঠন নিষিদ্ধের ভিত্তি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ২০১০ সালের পর সংঘটিত গুম, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার ঊর্ধ্বতন দায়িত্ব ছিল বলে তদন্তে অভিযোগ রয়েছে। তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার বিচারও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত একই আইনি কাঠামোর আওতায় হবে।
তিনি আরও জানান, তদন্ত আপাতত আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে চললেও প্রমাণ পাওয়া গেলে সাবেক ১৪ দলীয় জোট বা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেও তদন্তের পরিধি বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কার্যক্রমে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই এবং সব অভিযোগ সমান গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।