
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার কেউ ক্রসফায়ার অভিযানে রাজি না হওয়ায় পাশের উজিরপুর থানা থেকে পুলিশ এনে দুই রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা করা হয় বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) অসীম কুমার সিকদার এ জবানবন্দি দেন। ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ার দেওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়।
জবানবন্দির আগে সূচনা বক্তব্য দেন প্রসিকিউটর মো. সহিদুল ইসলাম সরদার। এর মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
এ মামলায় চারজন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। অপর দুই আসামি উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন কারাগারে রয়েছেন।
জবানবন্দিতে অসীম কুমার সিকদার বলেন, ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি জানতে পারেন বুধার এলাকায় বাইপাস মহাসড়কে একটি ফলবাহী পিকআপে আগুন দেওয়া হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর পর মালিক বা চালক কাউকেই পাওয়া যায়নি। পরে ওসি বাদী না থাকায় তাঁকেই এজাহার লিখতে বলেন এবং তিনি তাতে স্বাক্ষর করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ আগৈলঝাড়া থানায় আসেন এবং তাঁকে ডেকে বলা হয়, ‘অগ্নিকাণ্ডের মামলায় এসআই নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। আসামিদের নিয়ে আসা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ আছে তাঁদের ক্রসফায়ার দিতে হবে। এ কাজ তোমাকেই করতে হবে।’
অসীম কুমার সিকদার বলেন, তিনি এতে রাজি না হলে পুলিশ সুপার তাঁকে গালাগাল করেন এবং কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, থানার অন্য কর্মকর্তাদেরও একই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কেউ রাজি হননি।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি বাইপাস ব্রিজ এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন। রাত ২টার দিকে এসপির গাড়ি ও একটি মাইক্রোবাস ঘটনাস্থল অতিক্রম করে বুধার এলাকার দিকে যায়। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ ও আগুনের শিখা দেখতে পান তিনি।
পরে সকালে ওসি তাকে জানান, ওই রাতে ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদার ও জাসাস নেতা কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। থানার কেউ রাজি না হওয়ায় পাশের উজিরপুর থানা থেকে এএসআই মাহাবুল ও এএসআই জসিমকে এনে এ ঘটনা ঘটানো হয় বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।