.jpeg)
কিশোরগঞ্জে তালাবদ্ধ একটি বসতঘরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্রসহ ঘরের ১০টি দরজা ও ১০টি জানালা খুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ১৬ জুন বিকেলে শহরের গাইটাল নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক মোসা. নাহার খান জানান, তাঁর প্রয়াত স্বামী ও জেলা জজকোর্টের আইনজীবী মোশারফ হোসেন খান গাইটাল মুরাদ পেট্রোল পাম্পের পেছনে ১২ শতাংশ জমি কিনে দুটি হাফ-বিল্ডিং বসতঘর নির্মাণ করেছিলেন। স্বামীর জীবদ্দশায় তাঁরা সেখানে বসবাস করতেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি সন্তানদের পড়াশোনা ও কাজের সুবিধার্থে শহরের আলোর মেলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকছেন এবং সেখানে একটি পোশাক ব্যবসাও পরিচালনা করছেন।
তিনি আরও জানান, নয়াপাড়ার বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা ও তালাবদ্ধ ছিল। মাঝেমধ্যে তারা গিয়ে দেখে আসতেন। সেই সুযোগেই দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তাণ্ডব চালায়।
নাহার খান বলেন, ‘চোরচক্র বাসা থেকে ১০টি লোহা ও স্টিলের দরজা, ১০টি জানালা, ২টি কাঠের খাট, ২টি সোফা, ২টি সাবমার্সিবল পানির পাম্প, ২টি পানির ট্যাংকি এবং ঘরের বিদ্যুতের পুরো ওয়ারিংয়ের তার খুলে নিয়ে গেছে। এতে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। চোরেরা যেভাবে দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে, তা ভাবাই যায় না। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং জড়িতদের দ্রুত শাস্তি চাই।’
প্রতিবেশী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের ধারণা, এটি দিনের বেলায়ই ঘটেছে। তবে বাড়িটি দীর্ঘদিন ফাঁকা থাকায় আমরা ভেবেছিলাম মালিকপক্ষই হয়তো কিছু সরিয়ে নিচ্ছেন। এত বড় চুরির ঘটনা ঘটবে তা কল্পনাও করিনি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জ শহর ও আশপাশে চুরি, ছিনতাই ও রাহাজানির ঘটনা বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা পুলিশের আরও কঠোর ও দৃশ্যমান ভূমিকা দাবি করেছেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।