
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাই কোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে তাকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। পরে আইনজীবী সাজু একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আইভী ইতোমধ্যে ১০টি মামলায় জামিন পেয়েছেন। এরপরও নতুন দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছেন এবং নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আইভী দেশের প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র এবং টানা তিনবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৮ আগস্ট তাকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত বছরের ৯ নভেম্বর ওই পাঁচ মামলায় হাই কোর্ট তাকে জামিন দেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত করে বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।
পরে আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়, যেখানে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে চেম্বার আদালত তা স্থগিত করেন।
এদিকে সর্বশেষ আরও দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইভীর আইনজীবীরা রিট আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি শেষে হাই কোর্ট এই রুল জারি করেন।