
জুলাই ও আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই আদেশে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে জুলাই হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল।
মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিচার পরিচালনার লক্ষ্যে আগেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আসামিদের পক্ষে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।
শুনানিকালে প্রসিকিউশন দল আসামিদের ব্যক্তিগত ভূমিকা ও অপরাধের ধরন বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করে। বিশেষভাবে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা তিনটি নির্দিষ্ট অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে পাঠ করা হয়। প্রসিকিউটরদের বক্তব্যে বলা হয়, জুলাই ও আগস্টের গণআন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ দেওয়া, সহিংসতায় উসকানি ও প্ররোচনায় এই সাত নেতা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলো গ্রহণ করে বিচার শুরু করার এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান শুনানিতে দাবি করেন, তাঁদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং মামলার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়নি। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের অভাব দেখিয়ে তাঁরা আসামিদের অব্যাহতির আবেদন জানান। তবে ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে অব্যাহতির আবেদন খারিজ করেন এবং অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে বিচারিক বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিচার প্রক্রিয়াকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।