
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে গুরুদাসপুর থানার আমলি আদালতে এ রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মিন্টুর প্রথম দফার তিন দিনের রিমান্ড শেষ হয় গত শুক্রবার। ওই রিমান্ড চলার সময়ই মামলাটির তদন্তভার থানা-পুলিশের কাছ থেকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার বিকেলে মিন্টুকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম তাঁকে আরও সাত দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।
সোমবার দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, রিমান্ড শুনানিতে মিন্টুর আইনজীবী আবেদনটির বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, মিন্টুকে এরই মধ্যে একবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাই দ্বিতীয় দফায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, আগের রিমান্ড কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল অন্য তদন্ত কর্মকর্তার অধীনে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তারও আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
শফিকুল ইসলাম আরও জানান, রিমান্ড শুনানির সময় মিন্টুকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হবে।
গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরে হামলার শিকার হন ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই দিন হাসপাতালে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে অবরুদ্ধ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে বাবার কথায় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তাঁর ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু।
শাকিল হত্যা মামলায় আনিসুর রহমান ও মো. আল-আমিন নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁদেরও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।