
মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট এবং বিবাদীকে হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফরিদপুরে এক নারী ও তার স্বামীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সাজা ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মামলার বাদী রিনা আক্তার এবং তার স্বামী ও মামলার প্রথম সাক্ষী মাসুদ বেপারী।
জেরায় উঠে আসে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বুধবার বাদী রিনা আক্তার ও প্রথম সাক্ষী মাসুদ বেপারী আদালতে নিজেদের জবানবন্দি ও সাক্ষ্য দেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জেরার একপর্যায়ে দুজনের বক্তব্যে একাধিক অসংগতি ও অসত্য তথ্যের বিষয়টি সামনে আসে। তাদের জবানবন্দি এবং জেরায় দেওয়া উত্তর পর্যালোচনা করে আদালত মামলাটি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এবং বিবাদীকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছিল।
বানোয়াট মামলা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের সাজা
সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর মামলাটি যে সম্পূর্ণ বানোয়াট, তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত মনে করেন। এ ঘটনায় বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিবাদীকে অন্যায্যভাবে হয়রানি করার পাশাপাশি আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বাদী রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক শামীমা পারভীন।
রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। সাজা ঘোষণার পরপরই পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
পরে আদালতের সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে রিনা আক্তার ও মাসুদ বেপারীকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, মিথ্যা মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে আদালতের এই কঠোর অবস্থান সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে।