
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রামের রাউজানে সনাতন সম্প্রদায়ের চার বছর বয়সী এক কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে—এমন দাবি করে একটি ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। একই পোস্টে বলা হয়, শিশুটির মা স্থানীয় মুরুব্বিদের কাছে সালিশের মাধ্যমে ঘটনার বিচার চেয়ে আকুতি জানাচ্ছেন।
তবে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অনুসন্ধানে রাউজান থানা এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাউজানের ঘটনা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবিটি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি আসলে রাউজানের কোনো ঘটনার নয়।
ছবিটি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের একটি ঘটনার ভিডিও থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট। ওই ঘটনাটি গত ২০ জুন ঘটেছিল।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ছবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকৃত ঘটনাটি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার। সেই ঘটনায় এরই মধ্যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে ছড়ানো হয় পোস্ট
সম্প্রতি ‘Nondini Rani’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে শিশুটির মায়ের আকুতির ছবি প্রকাশ করা হয়। পোস্টটিতে দাবি করা হয়, ঘটনাটি রাউজানে ঘটেছে এবং ভুক্তভোগী শিশুটির মা স্থানীয়দের কাছে বিচার পাওয়ার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।
শিশুটির ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে পোস্টটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চরম বিভ্রান্তি ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়।
পুলিশ জানায়, বিষয়টি যাচাই না করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী পোস্টটি শেয়ার ও পুনঃপ্রচার করতে থাকেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাউজানের নামে ছড়িয়ে পড়া ছবিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৃত ঘটনাটি মাদারীপুরের রাজৈরে ঘটেছিল। ওই ঘটনায় এর আগেই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজৈরের ঘটনার পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, রাউজান থানা এলাকায় এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর বা স্পর্শকাতর ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য, মাদারীপুরের একটি পুরোনো এবং ইতোমধ্যে নিষ্পত্তিকৃত ঘটনার ছবি একটি জালিয়াত চক্র ডিজিটাল মাধ্যমে বিকৃত উদ্দেশ্যে রাউজানের ঘটনা হিসেবে প্রচার করেছে।
অপপ্রচারের উৎস খুঁজছে সাইবার ইউনিট
শিশু নির্যাতনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনার ছবি ও ভুল তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে একদিকে যেমন সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুর ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই অপপ্রচারের পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্ত করতে পুলিশের সাইবার ইউনিট কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
যাচাই ছাড়া ছবি-তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া শেয়ার না করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আকুল আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
একই সঙ্গে রাউজানকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ানোর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে।