
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় কুব্বাত আলী বেপারী (৬১) নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, ঋণের চাপ ও পারিবারিক আর্থিক সংকটে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
সোমবার সকালে উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন।
নিহত কুব্বাত আলী ওই গ্রামের প্রয়াত পাহালি বেপারীর ছেলে।
ওসি আফজাল হোসেন বলেন, কুব্বাত আলীর দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। বড় ছেলে ওলি প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বিদেশে থাকলেও বাবাকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা করতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, কুব্বাত আলীর অপর ছেলেও বিদেশে গিয়ে প্রত্যাশিত আয় করতে পারছিলেন না। ফলে তিনিও বাবাকে আর্থিক সহায়তা করতে পারতেন না বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
প্রতিবেশীরা জানান, সোমবার সকালে বাজার থেকে বাড়িতে ফেরেন কুব্বাত আলী। পরে তিনি নিজ বসতঘরের শোবার কক্ষে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।
প্রতিবেশী আবুল হাশেম বলেন, “কুব্বাত আলীর বড় ছেলে ওলি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকলেও বাবাকে তেমন টাকা-পয়সা দিতেন না। আরেক ছেলেও বিদেশ গিয়ে ভালো আয় করতে পারেননি। এ কারণে কুব্বাত আলী অনেকটা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “পারিবারিক আর্থিক সংকটের পাশাপাশি কয়েক লাখ টাকা সুদে নেওয়া ঋণের চাপে ছিলেন কুব্বাত। তিনি খুবই সহজ-সরল মানুষ ছিলেন।”
বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কাশেম বলেন, পারিবারিক আর্থিক সংকটের পাশাপাশি কয়েক লাখ টাকা ঋণের চাপে ছিলেন কুব্বাত আলী।
ওসি আফজাল হোসেন বলেন, আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে কুব্বাত আলী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।