
মাদারীপুরে চার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থানায় ফেরার পথে পুলিশের পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক উপপরিদর্শকসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ও চার পথচারী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চার পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়কের খোয়াজপুর ইউনিয়নের মঠেরবাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত কনস্টেবল আব্দুস সালাম (৫১) কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরকরমশি গ্রামের আব্দুল বারেক ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদারীপুর পৌর শহরের ইটেরপুল এলাকা থেকে মারামারি মামলার চার আসামি রজ্জব, জহিরুল ইসলাম, মিজান ও আব্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের শিবচর থানায় নেওয়ার জন্য পুলিশের পিকআপে তোলা হয়।
পিকআপটি মঠেরবাজার এলাকায় পৌঁছালে ইমা আক্তার নামে এক শিশু হঠাৎ রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করে গাড়িটির সামনে চলে আসে। শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। একপর্যায়ে পিকআপটি উল্টে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় গাড়িতে থাকা কনস্টেবল আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন ভদ্রাসন পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক (৪৫), কনস্টেবল সোহেল মাতুব্বর (৩৫), শামীম মিয়া (৩৪), হাসান হোসেন (২৫) ও শরীফুল ইসলাম (৩২)। এ ছাড়া চার পথচারীও আহত হয়েছেন।
পরে স্থানীয়রা ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত চার পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আসামিদের নিয়ে ফেরার পথে একটি শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গাড়িটি উল্টে যায়। এতে আমাদের একজন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, সড়কে চলাচলের সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন।