
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র মামলায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. মাসুদুল করিম ওরফে ‘কিলার মাসুদ’ (৫০) গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. মাসুদুল করিম ওরফে কিলার মাসুদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার চর দুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের পূর্ব লাড়ুয়া গ্রামের মৃত আবদুল হালিম ভূঁইয়ার ছেলে।
একটি অস্ত্র মামলায় আদালত তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় ঘোষণার পর থেকে দীর্ঘদিন তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যাহ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকায় মাসুদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি থানার হাজতে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাংস্টার পিচ্চি হান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে মাসুদ পরিচিত ছিলেন। ২০০৪ সালের ২৬ জুন রাতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ক্রসফায়ারে পিচ্চি হান্নান নিহত হওয়ার পর মাসুদ আত্মগোপনে চলে যান।
সূত্র আরও জানায়, পিচ্চি হান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এর আগে মাসুদ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
সংবাদে বলা হয়, মাসুদ বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন এবং একটি মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত। তথ্যপ্রযুক্তি ও পুলিশের বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে ডবলমুরিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
এই অভিযানে ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক জুমায়েত হোসেন ও মাসুদ আলম স্থানীয় থানা-পুলিশের সহযোগিতায় অংশ নেন।
ফরিদগঞ্জের রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত ড. শামছুল হক ভূঁইয়ার হাত ধরে মাসুদ ফরিদগঞ্জে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনৈতিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় ফরিদগঞ্জে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠেন মাসুদ। ২০০৪ সালে পিচ্চি হান্নান নিহত হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।