
বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি এবং ছয়জন এফডিএমএন সদস্য।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ জেটিঘাট থেকে নাফ নদী হয়ে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
বিজিবি জানায়, তাদের প্রচেষ্টায় এবং মানবিক তৎপরতার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জন জেলেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ছয়জন এফডিএমএন সদস্য।
২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁদের মিয়ানমারের আরাকান আর্মি আটক করে নিয়ে যায়। পরে আটক জেলেদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিয়ন্ত্রিত স্থানে অথবা কারাগারে সাজা দিয়ে আটক রাখা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বিজিবির উদ্যোগে আটক জেলেদের ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। এর ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে তাঁদের হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এরই অংশ হিসেবে বুধবার বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্যলাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে মোট ২৪ জন জেলেকে গ্রহণ করে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি এবং ছয়জন এফডিএমএন সদস্য। পরে তাঁদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়।
ইতোমধ্যে স্থানীয় উপজেলা প্রতিনিধি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলছে। দেশে ফিরিয়ে আনা জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
বিজিবি জানায়, এ উদ্যোগের ফলে আটক জেলেদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে স্বস্তি ও আশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আটক জেলেদের দেশে ফেরত আসাকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আটক থাকা বাকি জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিজিবি সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।