
এক মাসের ব্যবধানেই আবারও ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা। টানা বৃষ্টিতে কোথাও গোড়ালি থেকে হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে।
এতে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে অফিস-আদালত ও কর্মস্থলমুখী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
রোববার (১৬ আগস্ট) থেকে চট্টগ্রামে বৃষ্টি শুরু হয়। দিনভর হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পর রাতে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।
নগরের কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, ফরিদারপাড়া, চকবাজার, আগ্রাবাদ, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ নালাপাড়া ও জামালখানসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
গত জুলাইয়েও টানা চার থেকে পাঁচ দিন জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়েছিলেন নগরবাসী। এর আগে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে প্রবর্তক মোড়েও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয় জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া জানান, রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা অতি ভারী বর্ষণ হিসেবে বিবেচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টি হলেই কাতালগঞ্জ ও পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। হিজড়া খালের কাজ শেষ না হওয়ায় এসব এলাকায় দ্রুত পানি জমে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা আটকে থাকে। সোমবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় সকালে প্রায় কোমরসমান পানি জমে যায়। জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পাঁচলাইশ আবাসিক ও দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকাতেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। স্বাভাবিক সময়ে বাসা থেকে নিউমার্কেট মোড় পর্যন্ত রিকশাভাড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা হলেও সোমবার সেই ভাড়া বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড মিলে ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টি হলেই নগরের বিভিন্ন এলাকা আগের মতোই পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
জলাবদ্ধতার বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, সকালে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানির চাপও ছিল। এ কারণে কিছু এলাকায় পানি জমেছে। পানি নিষ্কাশনে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কাজ করছেন। বৃষ্টি থামলে দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।