
ভোলায় বোরহানউদ্দিন উপজেলায় টিফিনের সময় বাড়িতে খেতে যাওয়ার পথে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বড় ভাই বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় পাঁচজনকে আসামি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা করেন। এর আগে গত ২৬ জুলাই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মা মনসা গ্রামের দালাল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ২৬ জুলাই দুপুরে স্কুলের টিফিন বিরতির সময় বাড়ি ফেরার পথে জিহাদ নামে এক কিশোর কৌশলে ওই শিক্ষার্থীকে স্থানীয় একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই রাহাদ, রহিম, জিসান ও ঈমন অবস্থান করছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী চিৎকার শুরু করলে রাহাদ তার মুখ চেপে ধরে প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় জিসান মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। এরপর জিহাদ, রহিম, জিসান ও ঈমন পর্যায়ক্রমে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সেই ভয়েই শিশুটি এতদিন বিষয়টি গোপন রাখে। পরে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করতে থাকে। গত ৪ আগস্ট মঙ্গলবার তারা ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। এরপর পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে ভুক্তভোগী পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়।
এরপর বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বড় ভাই বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভুক্তভোগীর প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মামলা দায়েরের পর রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা এবং আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।