
বাড়ির উঠানে থাকা পারিবারিক কবরস্থানের ঝোপঝাড়ের আড়ালে গোপনে বেড়ে উঠছিল ১২ ফুট উঁচু একটি গাঁজার গাছ। বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় ছিল না যে, কবরস্থানেই মাদকজাত এই গাছের চাষ করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে গাঁজার গাছসহ এক দিনমজুরকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
রোববার (২ আগস্ট) রাতে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার আকন্দপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মো. সিরাজুল ইসলাম (৪০) নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি গ্রামের মৃত ফরিদ ফকিরের ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত ৯টার দিকে সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় তার পারিবারিক কবরস্থানের ভেতরে একটি গাঁজার গাছের অস্তিত্ব শনাক্ত করেন ডিএনসির সদস্যরা। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সোয়া ৯টার দিকে সেখান থেকে ১২ ফুট উঁচু জীবন্ত গাঁজার গাছ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। একই সময় সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয় এক মাদক কারবারির কাছ থেকে গাঁজার চারা সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর সেটি গোপনে পারিবারিক কবরস্থানে রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহা. জিললুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিশাল আকৃতির একটি গাঁজার গাছ উদ্ধার এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।
তিনি আরও জানান, রোববার রাতেই উদ্ধার হওয়া গাঁজার গাছ, রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা আলামত এবং জব্দতালিকাসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে গাবতলী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গাবতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।