
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের এক মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজারের স্বাক্ষর জাল করে ৬০ হাজার টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তার সতর্কতায় টাকা উত্তোলনের আগেই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে বদলগাছী সোনালী ব্যাংক শাখায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রোববার (২ আগস্ট) বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ব্যাংক ও মডেল মসজিদ সূত্রে জানা যায়, মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মাহফুজ ৬০ হাজার টাকার একটি চেক নিয়ে সোনালী ব্যাংকের বদলগাছী শাখায় যান। চেকটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি এবং মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষর ছিল।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে জাহাঙ্গীর আলম বদলগাছী থেকে অন্যত্র বদলি হওয়ায় তার স্বাক্ষর দেখে ব্যাংক ব্যবস্থাপক নূর আলমের সন্দেহ হয়। এ সময় মাহফুজ দাবি করেন, দায়িত্ব ছাড়ার আগে জাহাঙ্গীর আলম ওই চেকে স্বাক্ষর করে রেখে গেছেন।
পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনির সঙ্গে যোগাযোগ করে। চেকটি যাচাই-বাছাইয়ের পর স্বাক্ষরে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রাথমিকভাবে জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকের বিপরীতে কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি।
ঘটনার পর অভিযুক্ত মুয়াজ্জিন মাহফুজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মডেল মসজিদের বর্তমান ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আল আমিন সরকার বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন দেখবে।
সোনালী ব্যাংকের বদলগাছী শাখার ব্যবস্থাপক নূর আলম বলেন, চেকটি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। যাচাইয়ের পর চেকের বিপরীতে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ঘটনাটি সত্য। প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি শনাক্ত হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।