
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় নিখোঁজ থাকার নয় দিন পর এক কাস্টমস সিপাহির খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে চারটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরা অবস্থায় তার শরীরের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে মরদেহের খণ্ডাংশগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহত কাস্টমস সিপাহির নাম আবু রায়হান তালুকদার (৪০)। তিনি সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। ঢাকার কমলাপুর কাস্টমস হাউসে তিনি ‘সিপাহি’ পদে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই বৃদ্ধ মাকে দেখতে ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আসেন আবু রায়হান। পরদিন সকালে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং এরপর তিনি নিখোঁজ হন।
ঘটনার চার দিন পর, ২৭ জুলাই রাতে তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তা এবং মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সোয়াইতপুরে আবু রায়হানের বাড়িতে যায়। সেখানে বাড়ির প্রতিটি অংশ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশি শেষে পুলিশ সদস্যরা ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাদের জানান, বাড়ির পেছনের একটি পুকুরে কয়েকটি ট্রাভেল ব্যাগ ভাসছে এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।
পরে পুলিশ পুকুর থেকে ভাসমান চারটি ব্যাগ উদ্ধার করে। ব্যাগগুলো খুলে দেখা যায়, মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নৃশংসভাবে কেটে আলাদা করে রাখা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা খণ্ড-বিখণ্ড এবং গলিত মরদেহটি কাস্টমস সিপাহি আবু রায়হানের বলে শনাক্ত করেন।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির কেয়ারটেকারকে খোঁজা হচ্ছে।