
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একটি এলাকায় কথিত মাদকের আস্তানায় আগুন দিয়ে এক অভিযুক্ত মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার জিরি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তাপুর মহিরাখাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পটিয়া থানা পুলিশ মো. এস্কান্দর প্রকাশ (এস্ক) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিরি ইউনিয়নের নিশ্চিন্তাপুর মহিরাখাইন এলাকায় একটি জরাজীর্ণ কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে মাহমুদুল হক নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে মাদকের আস্তানা পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা চলায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ জমে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই আস্তানাটি ঘিরে ফেলে। এ সময় মাহমুদুল হক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও এস্কান্দরকে আটক করা হয়। পরে আস্তানাটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।
এ সময় এস্কান্দরের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ওই আস্তানাতেও আরও কিছু ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এস্কান্দরকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার এস্কান্দর জিরি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মালিয়ারা এলাকার মোহাম্মদ সেকান্দরের ছেলে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ফোরকান ও ছাত্রদল নেতা লতিফ বলেন, এলাকায় মাদকের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে ওই মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেন। পরে ক্ষুব্ধ জনতা সেখানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে এস্কান্দরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। একই সঙ্গে তারা এ চক্রের মূল হোতা মাহমুদুল হককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হালিম বলেন, এলাকায় মাদকের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। কয়েকবার সতর্ক করার পরও তারা মাদক ব্যবসা বন্ধ না করায় শেষ পর্যন্ত স্থানীয়রা এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এস্কান্দরকে আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।