
কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেল খুলে পাওয়া গেল এক গজ সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপ জল, আগরবাতি আর সঙ্গে প্রাণনাশের হুমকি সম্বলিত বার্তা! কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে ঠিক এভাবেই হত্যার হুমকি দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে ভুগছেন ওই কর্মকর্তা ও তার পরিবার, যা নিয়ে ইতোমধ্যে ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ নথি ও জিডির বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মধ্যপাড়া এলাকায় অবস্থিত 'ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়'-এর ঠিকানায় পার্সেলটি পাঠানো হয়, যে প্রতিষ্ঠানটি মূলত ভুক্তভোগী কর্মকর্তার স্ত্রীর। ভৈরবের এসএ পরিবহন শাখা থেকে প্রেরিত সেই পার্সেলে বুকিংদাতার নাম লেখা ছিল ‘হরিদাস, আশুগঞ্জ’ এবং সাথে একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়। অন্যদিকে প্রাপক হিসেবে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুকের নাম ও তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়।
ঘটনার দিন কর্মস্থলে ব্যস্ত থাকায় ফারুকের ছেলে মুন্তাসির মাহমুদ ঈশান দুপুরে কুুরিয়ার সার্ভিস থেকে পার্সেলটি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাসায় নিয়ে সেটি খোলামাত্রই দেখা যায় ভেতরে এক গজ সাদা কাফনের কাপড়, এক বোতল গোলাপ জল, এক প্যাকেট আগরবাতি এবং একটি হাতে লেখা হুমকি সংবলিত চিরকুট রাখা আছে। সেই চিরকুটে স্পষ্ট লেখা ছিল, ‘আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।’
নিজের পেশাগত অবস্থান ও সৎ মনোভাবের কথা তুলে ধরে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক বলেন,
"আমি চার বছরের বেশি সময় ধরে সততা ও নিয়মনীতি মেনে দায়িত্ব পালন করছি। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা বিধিবহির্ভূত আবদারকে প্রশ্রয় দিইনি। সরকারি বিধি রক্ষায় আমাকে সবসময় কঠোর অবস্থান নিতে হয়েছে। ধারণা করছি, কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কারণে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপরাধী চক্র এ ধরনের হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় আমি ও আমার পরিবার মানসিকভাবে আতঙ্কিত।"
ভয়াবহ এই ঘটনার বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ বিষয়টি পুলিশ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করছে। পার্সেল প্রেরকের পরিচয় ও বুকিংয়ে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।