
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পীরগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম ক্রয়সূত্রে একটি জমির মালিক হন। পরে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা এবং জামায়াতে ইসলামীর ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাতেন মিয়া তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত সোমবার সকালে বাতেন মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১১ জন নির্মাণস্থলে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন। দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানালে আমিনুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর নির্মাণকাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বৈধভাবে সম্পত্তির মালিক হয়ে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছিলাম। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে জামায়াত নেতা বাতেন মিয়া আমার নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা সীমা বেগম, রবিউল মিয়া ও রিপন মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাতেন মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার যা করণীয়, তা-ই করব, সেটা আপনাকে জানাব না।’ পরে তিনি নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, ভাই-বোনের জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তারা সালিশে গিয়েছিলেন। সেখানে আমিনুল ইসলামের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার সময় তিনিও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তবে বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
উপজেলা জামায়াতের আমির মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নজরে এলে খতিয়ে দেখা হবে।’
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।