
পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটিতে সাম্প্রতিক অতিবর্ষণের কারণে পাহাড় ধস ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা ৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত মোট ৪,১৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) দুপুরে জেল ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আশ্রয়গ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাঙলয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে, যেখানে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ১,১০০ জন। এছাড়া বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ৫২০ জন এবং করেঙ্গাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ২৪০ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া সকল লোকজনকে প্রতিদিন তিন বেলা খাবার প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে, অতিবর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্য মতে, জেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৯৭টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধসের ঘটনা ঘটেছে কাপ্তাই উপজেলায় (১৯টি) এবং বাঘাইছড়ি ও কাউখালী উপজেলায় সমান সংখ্যক (১৩টি করে) পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া রাঙামাটি সদরে ১০টি, নানিয়ারচরে ২টি এবং বিলাইছড়িতে ৭টি স্থানে পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত মানুষদের নিরাপত্তা ও খাদ্য নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে গত মঙ্গলবার দলমনি চাকমা, পিতা: অলা চাকমা নদী পারাপারের সময় ভেসে যান এবং নিখোঁজ হন। আজ বৃহস্পতিবার তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর এবং পরিদর্শন করছেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।