
লালমনিরহাটের ত্রিদেশীয় বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকার ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘ ২ বছর পর বাংলাদেশ-ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা শুরু হওয়ায় ব্যাপক আনন্দ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে আবারও প্রাণ ফিরে আসবে- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকার মানুষ।
ভারতের ভিসা চালুর খবরে সীমান্তে বন্ধ হয়ে যাওয়া হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন কাউন্টারগুলো আবার খোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারত, ভুটান, নেপালসহ তিন দেশ ভ্রমণে ব্যবহৃত হয় বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টটি। গত ৪ আগস্ট, রংপুর ভারতীয় হাইকমিশন ভিসা প্রসেসিং বন্ধ করে দেওয়ায় শুরু হয় জটিলতা। এর ফলে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত আশংকাজনক হারে কমে যায়।
ঐ সময়ে শুধু বিজনেস ও মেডিকেল ভিসা চালু থাকলেও তা ছিল নামমাত্র। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছিলেন ভ্রমণপিপাসু ও মেডিকেল ভিসার জন্য আবেদনকারীরা। এছাড়া যাত্রী পারাপার কম হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি কমেছে স্থানীয় সাধারণ দিন মজুর, ভ্যান চালক, গাড়িচালকদের আয়। পাসপোর্টধারী যাত্রী সংকটে বন্ধ হয়ে যায় পরিবহন, হোটেল ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে স্থানীয় শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ চরম বিপাকে পড়েন এবং অনেকে বেকার হয়ে পড়েন।
এদিকে, গত ২৮ জুন দীর্ঘ প্রায় দুই বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বুড়িমারী ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বুড়িমারী স্থলবন্দর চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০-৬০০ যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক ছিল।
সীমিত পরিসরে শুধু মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা চালু থাকায় যাত্রী সংকটে পড়ে চরম মন্দা দেখা দেয় পরিবহন ও হোটেল ব্যবসায়। কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছিলেন স্হানীয় শ্রমিক ও কর্মজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ সাইফুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ২ বছর পর ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় বুড়িমারী ইমিগ্রেশন চৌকি দিয়ে যাত্রী পারাপার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।