
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এক সরকারি কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাসা থেকে উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের (৩৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে জীবননগর পৌর শহরের বসুতিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে তার এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত মাহমুদুর রহমান চুয়াডাঙ্গা শহরের কবরী রোড এলাকার বাসিন্দা আতাউর রহমানের সন্তান। তবে তাদের আদি পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর গ্রামে। প্রায় তিন বছর আগে তিনি জীবননগর উপজেলায় আইসিটি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।
মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল এবং জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ।
ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কোনো বিরোধের জেরে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
নিহতের স্ত্রী ইতি খাতুন পারিবারিক কলহের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মাঝে সাধারণ বিষয়ে মনমালিন্য হলেও তা দ্রুতই সমাধান হয়ে যেত। তিনি বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার দিন সকালেও স্বামীর সঙ্গে তার কোনো ধরনের বাকবিতণ্ডা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ইতি খাতুন আরও জানান, সকালে তিনি তার সন্তানের জন্য বাজার থেকে জুস কিনতে গিয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে বাসায় ফিরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে শেষমেশ প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন। পরে সবার সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মাহমুদুর রহমানকে সিলিংয়ের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’