
কবরস্থানে বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দুই মাসের পুরনো একটি গ্রামীণ কোন্দল অবশেষে রূপ নিল এক প্রলয়ংকরী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতে। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ভয়াবহ সংঘর্ষে মো. সেলু মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া এই ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর জখম হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা নামার পরপরই দুই গ্রামের বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস পূর্বে কবরস্থানে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে আদিত্যপুর গ্রামের মর্তুজা মিয়ার ছেলে আক্তার মিয়া ও নাসির মিয়ার সাথে পার্শ্ববর্তী আরিছপুর গ্রামের মিলন মিয়া, সারু মিয়া ও এখলাছ মিয়ার মধ্যে প্রথম বিরোধ ও মারামারির সূত্রপাত হয়। সেই পুরনো শত্রুতার জের ধরে গত শুক্রবারও উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে নতুন করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায়, সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ডুবাঐ বাজারে দুই পক্ষের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবারো মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে আদিত্যপুর গ্রামের মৃত ফিরোজ আলীর ছেলে মো. সেলু মিয়া মারাত্মকভাবে আহত হন। পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আদিত্যপুর ও আরিছপুর গ্রামজুড়ে চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা কাজ করছে। তবে নতুন করে সংঘাত থামাতে এবং পরিবেশ শান্ত করতে স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সালিশি বৈঠক আয়োজনের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত বাহুবল থানার এসআই সাদ্দাম জানান, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"