
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং একটি দুগ্ধ খামারে দায়িত্বরত নৈশপ্রহরীদের হাত-পা বেঁধে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই দুই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ দুর্ধর্ষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতরা হলেন— সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার পাকড়তলা গ্রামের বাসিন্দা সাদেক আলী ওরফে মোকাদ্দেস (৬২), তাঁর ছেলে হৃদয় হাসান (২৬), শাহজাদপুর থানার বাওসাগরি (বাসামারা) গ্রামের মো. সুজন (৩১), নাটোর জেলার সিংড়া থানার সোনাপুর গ্রামের মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (৩১) এবং সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার গোপরেখী পশ্চিম পাড়ার মো. ইমদাদুল হক (৪৩)।
কামারখন্দ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কামারখন্দ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এবং গত ২৭ মে উপজেলার চৌবাড়ী গ্রামে অবস্থিত ‘ফেঞ্চি মিল্ক অ্যান্ড এগ্রো ফ্যাক্টরি’তে রাতের আঁধারে পাহারাদারদের হাত-পা বেঁধে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তদন্তে নেমে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, গ্রেপ্তারকৃত এই চক্রটিই অপরাধগুলোর পেছনের মূল হোতা।
পুলিশ আরও জানায়, এই চক্রের প্রধান সদস্যরা অতীতেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় ডাকাতি সংগঠিত করেছে। কামারখন্দ ছাড়াও আসামি হৃদয়, সুজন ও এমদাদুল ইতিপূর্বে নাটোরের সুগার মিল, মোহনপুরের কেশরহাটের কোল্ড স্টোরেজ, গোদাগাড়ি এবং সাভারের ধামরাই থানার একাধিক চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপরাধের চিরচেনা পথ বেছে নেয়।
অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে কামারখন্দ থানার ওসি হাশমত আলী জানান, "শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে রবিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত নাটোরের সিংড়া থানা এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি সাদেক আলী ওরফে মোকাদ্দেসের নামে ৫টি, হৃদয়ের নামে ৭টি, ইমদাদুলের নামে ৫টি, সুজনের নামে ১৩টি ডাকাতি ও চুরি মামলা, সবুজের নামে ৫টি চুরি, ডাকাতির চেষ্টা ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।"
আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে ওসি আরও বলেন, "জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সাদেক কামারখন্দ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ডাকাতি, নাটোর সুগার মিলে ডাকাতি, মোহনপুরের কেশরহাটের কোল্ড স্টোরেজে ডাকাতি, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার পপুলার পলিথিন কারখানায় ডাকাতিসহ আরও অনেক ডাকাতিতে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করে।"