
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের অপব্যবহার করলে অপরাধীকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে, এমনকি সে সরকারি দলের প্রভাবশালী কেউ হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এবারের জনমুখী বাজেটের সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে পারলে দেশ থেকে বেকারত্ব পুরোপুরি দূর হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে নাটোরের লালপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। উক্ত অনুষ্ঠানে লালপুর এলাকার দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা, সেলাই মেশিন, চাল ও হুইল চেয়ার প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং নতুন উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে আনুষ্ঠানিক সনদপত্র তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।
নতুন বাজেট ও গ্রামীণ অর্থনীতি প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, "এবারের বাজেটে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা সরকার থেকে সঠিকভাবে জনগণ পর্যন্ত পৌঁছালে প্রতিটি ঘর আলোকিত হবে। সবার কর্মসংস্থান হবে কেউ বেকার থাকবে না।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কড়া নির্দেশনা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "এলাকার রাস্তা ঘাট, ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণসহ প্রচুর উন্নয়ন কাজ হবে এখানে কেউ কোন প্রকার দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে অ্যারেস্ট (গ্রেপ্তার) করুন। আমার দলের লোক হলেও তাকে ছাড় দেবেন না। সরকারি অর্থ তছরুপ করার অধিকার কারো নেই।"
উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত ও কড়া নজরদারি বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদারকি বা মনিটরিং কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি, যা সরকারি কাজ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক টিমকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করবে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন— উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী মৃধা এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুনার রশিদ পাপ্পুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।