
ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর বড় অংশ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ঘাঁটির প্রবেশপথ ও সড়ক দ্রুত মেরামত করছে তেহরান, ফলে এসব হামলার কৌশলগত কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পর্যালোচিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, ইরান বুলডোজার, ডাম্প ট্রাকসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সুড়ঙ্গের মুখ খুলে দিচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্নির্মাণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা স্থায়ীভাবে অকার্যকর করা সম্ভব নয়, কারণ গভীর ভূগর্ভে বিপুল অস্ত্রভান্ডার এখনও নিরাপদে সংরক্ষিত রয়েছে।
গবেষণা সংস্থা জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন-প্রলিফারেশন স্টাডিজের এক গবেষক স্যাম লেয়ার বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও ইরানের হাতে এখনো বড় মজুত রয়েছে এবং উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষিত জনবল থাকায় তারা হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের একাধিক ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির প্রবেশপথ ধ্বংস করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সীমিত করার চেষ্টা করেছিল। এতে হামলার গতি কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর গত কয়েক সপ্তাহে পুনর্গঠনের কাজ আরও দ্রুত এগিয়েছে বলে জানা গেছে।
স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে ইসফাহানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে একাধিক সুড়ঙ্গ প্রবেশপথ পুনরায় চালু করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্নির্মাণের চিত্র পাওয়া গেছে। একইভাবে খোমেইন এলাকার একটি ঘাঁটিতে অন্তত ১০টি নির্মাণযান একযোগে পুনরুদ্ধার কাজে নিয়োজিত ছিল।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের কাছে এখনো প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, যা গভীর ভূগর্ভে সংরক্ষিত থাকায় বড় ধরনের বিমান হামলা থেকেও রক্ষা পেয়েছে।
গবেষকদের মতে, যুদ্ধকালেও ইরান সুড়ঙ্গ ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক সচল রাখতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ চালিয়ে গেছে, যা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখার সক্ষমতা দিয়েছে।
হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির গবেষক তিমুর কাদিশেভ বলেন, ইরান দীর্ঘ দুই দশক ধরে এমন সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাদের কাঠামো অত্যন্ত সংগঠিত।
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর দাবি করছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে। তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নেই ইঙ্গিত মিলছে, তেহরান ইতিমধ্যে ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরানের পুনর্গঠনের গতি অনেক ক্ষেত্রে পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত পুনর্গঠন সক্ষম হওয়ায় ভবিষ্যতে নতুন সংঘাত শুরু হলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি দ্রুতই আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।