
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, তার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। রোববার (৩১ মে) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পদমর্যাদা ও অবস্থান প্রসঙ্গে বক্তব্য
অনুষ্ঠানে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমি কিন্তু একজন এমপি না, আমি কিন্তু প্রতিমন্ত্রী। অফিসিয়ালি আমি প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী হলেও পার্লামেন্টের লিডার অব দ্য অপোজিশন, আর রিপোর্টিং অব দ্য অপোজিশন মন্ত্রীদের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পার্লামেন্টে দেখবেন আমি সেখানে প্রত্যেকদিন দুইবার কথা বলব। আর মন্ত্রীরা মাসে একবার কথা বলবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে তার স্ট্যাটাস হলো প্রতিমন্ত্রী। তার গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকে এবং এই পতাকা মন্ত্রীরাই পান। তবে সঠিক ভোট হলে তার সিনিয়র মন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল।
ভোটের ব্যবধান ও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ভোট পেয়েছি মাত্র ১০ শতাংশ কম। এরাউন্ড ৪০ শতাংশ ভোট আমাদের জোটের ভেতরে, কিন্তু সিট বাড়তি খরচ হয়েছে। জনমত প্রতিফলিত হয় ভোটের মাধ্যমে, সিটের মাধ্যমে না। ভোটের মাধ্যমে জামায়াত খুব কাছাকাছি সরকারি দলের। জামায়াতে ইসলামী যে পরিমাণ vote পেয়েছে এবার, সেই ভোট পেয়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। পরবর্তীতে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষমান দল হলো জামায়াতে ইসলামী।’
সরকারের মেয়াদ ও এলাকার উন্নয়ন
ডা. তাহের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সবে সরকারের তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। যদি বিএনপি পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে যায়, টিকবে কি না?’ তার এই প্রশ্নে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘টিকবে না’ বলে উত্তর দিলে তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু কিছু বলি নাই। আমরা চাই তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকুক। তারা ক্ষমতায় থাকলে এলাকার বরাদ্দ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।’
কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী কঠোর হুঁশিয়ারি
চৌদ্দগ্রাম এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ডা. তাহের বলেন, ‘চৌদ্দগ্রামের মৌলিক সমস্যা কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবার। এই চৌদ্দগ্রামে এই দুটোর কোনো স্থান হবে না। কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের ছয় মাস সময় দিচ্ছি আপনারা অন্য কোনো ব্যবসা খোঁজেন। না হয়, ছয় মাসের পরও যদি এই রাস্তায় থাকেন, তাহলে বোঝা যাবে আপনারা ইচ্ছে করেই এই রাস্তায় আছেন।’
তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারির চেয়ে ভালো মানুষের সংখ্যাই বেশি। তাই এদের ধরার জন্য সবাইকে ঘর থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ বের হলে সমাজ থেকে অপরাধ কমে যাবে। পরিশেষে তিনি ঘোষণা দেন যে, তার নিজের নেতৃত্বেই এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে এবং এদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।