
কুমিল্লা জেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তির জেরে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
গতকাল শনিবার (৩০ মে) তাদের মধ্যকার ৫৩ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ফোনালাপে জেলা পরিষদের প্রশাসক দাবি করেছেন, বরাদ্দকৃত অর্থ হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন—এমন কোনো বক্তব্য তিনি দেননি, বরং উন্নয়ন কাজের বরাদ্দকে গণমাধ্যম ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে।
ছড়িয়ে পড়া কলরেকর্ডের শুরুতে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহকে বলতে শোনা যায়, “রাজস্ব খাত থেকে ৫ কোটি, ১০ কোটি টাকা দেবিদ্বারে গেছে...”
এ সময় মোস্তাক মিয়া তাঁর কথা থামিয়ে বলেন, “না না, রাজস্ব খাত না, সব খাত মিলাইয়াই আমার জেলা পরিষদের মাধ্যমে আপনার এলাকায় (দেবিদ্বার) গেছে। আমি যেডা বলতে চাইছি যে আপনারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করছেন, এখন আপনার উপজেলায় গেছে ১০ কোটি, প্রায় ১০ কোটির কাছাকাছি, ওইখানে (মুরাদনগর) গেছে ১৫ কোটি। তো আমনে টাকা খাইছেন এটা তো আমি বলিনি।”
তখন হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন করেন, “আপনে কী বলছেন?” জবাবে মোস্তাক মিয়া বলেন, “আমি বলছি ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কে আপনারা দুই উপজেলায় নিয়ে গেছেন ২৫ কোটি। মিডিয়ায় হয়তো পুরোটা আসে নাই। আপনি এলাকার কাজের জন্য নিছেন, কাজ ছাড়া তো হবে না, আপনি খাইছেন এটা তো বলি নাই।”
এর আগে শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া।
সেখানে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। আর হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। এই হলো সমন্বয়কদের অবস্থা। তারা চেয়েছিলেন বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাদের মধ্যে সেটা ছিল না।”
এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরপরই হাসনাত আবদুল্লাহ ফোন করে প্রশাসকের কাছে এর কৈফিয়ত চান।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “এই অর্থ মূলত স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে দেবিদ্বারের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ব্যয় হয়েছে। দেবিদ্বারকে ১০ কোটি নয়, এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্বের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
প্রশাসকের তীব্র সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান থাকলে প্রশাসক এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলতেন না। আর উনি জনসভায় এমনভাবে কথাটি বলেছেন, মনে হচ্ছে টাকাটা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ এটি এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দ।”
অন্যদিকে, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া পরবর্তীতে সাংবাদিকদের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, দুই উপজেলায় মোট ২৫ কোটি টাকা কেবল উন্নয়ন কাজের জন্যই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে টাকা আত্মসাৎ করেছে, এমন কোনো উদ্দেশ্য তাঁর বক্তব্যে ছিল না।