
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অংশ হিসেবে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক থেকে আগামী আগস্টের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রশাসক তুলে নেওয়ার মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আগামী সপ্তাহেই এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের উপস্থিতিতে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ ব্যাপারে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে ব্যাংকগুলোর সার্বিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক কৌশল, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) চালুর অগ্রগতি এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে গভীরভাবে আলোকপাত করা হয়।
তবে এই সিদ্ধান্তের সাথে পুরোপুরি একমত হতে পারছেন না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা। তাঁদের মতে, সিবিএস বাস্তবায়নসহ চলমান সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকদের দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। পুনর্গঠনের এই জটিল সময়ে প্রশাসকদের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, চরম তারল্য ও আর্থিক সংকটের মুখে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক—এই পাঁচ সংস্থাকে একত্র করে নতুনভাবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিক, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আমানতের সুরক্ষার দাবিতে পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফটকের সামনে জমায়েত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তাঁরা অর্থমন্ত্রীর নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন; যেখানে ‘হেয়ারকাট’ সিদ্ধান্ত বাতিলের আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশিকা এবং সাধারণ তফসিলি ব্যাংকের ন্যায় স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় চালুর জোরালো দাবি জানান আমানতকারীরা।