
শরীয়তপুরের জাজিরায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের হয়ে মহাসড়কে মিছিলের প্রস্তুতির খবর পেয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল আয়োজকরা পালিয়ে গেলেও, ঘটনাস্থল ও তার আশপাশ থেকে নিরীহ পথচারী ও সাধারণ যুবকদের ধরে এনে মামলা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
গত শুক্রবার (২২ মে) দুপুরের দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের জাজিরা কলেজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জাজিরা থানা পুলিশ গোপন সংবাদ পায় যে—ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের জাজিরা কলেজ এলাকায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী জড়ো হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত সেখানে অভিযান চালালে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া ব্যক্তিরা দিকবিদিক ছুটে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মিছিলে অংশ নিতে আসা মূল রাজনৈতিক কর্মীদের কাউকে আটক করতে না পেরে পুলিশ ওই রাস্তা দিয়ে সাধারণ প্রয়োজনে যাতায়াতকারী পথচারীদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রথমে ৬ জন এবং পরবর্তীতে আরও ২ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। এরপর জাজিরা থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) হিমায়েত হোসেন বাদী হয়ে মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আটক ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ শনিবার (২৩ মে) শরীয়তপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. আতাহার সরদার (২৬), মো. নাহিদ হাসান সরদার (২২), তুলন মাদবর (১৯), শাকিল শিকারী (২০), জয় শেখ (২৬), লিয়াকত খান (২১), রিফাত মোল্লা (২০) এবং সাব্বির সরদার (২৪)। তাঁরা শরীয়তপুরের জাজিরা, নড়িয়া ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার হওয়া যুবকদের পরিবারের দাবি, আটকরা কেউই কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নন।
গ্রেপ্তার স্বর্ণশিল্পী শাকিল শিকারীর বাবা বিল্লাল শিকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার ছেলে রূপবাবুরহাটের একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করে। দুপুরে মোটরসাইকেল নিয়ে জাজিরা কলেজের কাছে চাচার বাড়ি গিয়েছিল চাচাতো বোনকে একটা জিনিস দিতে। সেখান থেকে ফেরার পথে পুলিশ ওকে ধরে নিয়ে যায়। আমার ছেলে কখনোই রাজনীতি করেনি।"
একইভাবে গ্রেপ্তার দিনমজুর আতাহার সরদারের বোন ফারজানা এবং ইলেকট্রিক মিস্ত্রি নাহিদ হাসানের বাবা আমির হোসেন সরদার জানান, আতাহার, নাহিদ ও সাব্বির তিন বন্ধু মিলে জাজিরার সেনেরচরে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জাজিরা বটতলা এলাকা থেকে পুলিশ তাদের অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে যায়। আমির হোসেন বলেন, "আমরা নিরীহ মানুষ, ছেলে দিনমজুর। পুলিশ মিথ্যা মামলায় আমার ছেলেকে ফাঁসিয়েছে, আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।"
অন্যান্য গ্রেপ্তারকৃতদের স্বজনরাও দাবি করছেন, সম্পূর্ণ বিনা দোষে তাদের সন্তানদের এই গুরুতর রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জড়িয়ে ক্যারিয়ার ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ পথচারীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ জানান, "ঘটনাস্থল এবং এর আশপাশ থেকে সন্দেহভাজন হিসেবেই এই ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আজ (শনিবার) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।"
মূল আসামিদের ছেড়ে নিরীহদের ফাঁসানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি আরও বলেন, "তাদেরকে আমরা সন্দেহভাজন হিসেবেই ধরেছি। তবে মামলার তদন্ত সাপেক্ষে যদি পরবর্তীতে কেউ প্রকৃতপক্ষে নিরপরাধ প্রমাণিত হন, তবে তাঁকে চার্জশিট থেকে বা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।"