
গোপালগঞ্জবাসীর জন্য রেল যোগাযোগে এক দারুণ সুখবর নিয়ে আসছে বিএনপি সরকার। ঢাকা ও গোপালগঞ্জের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ ও আরামদায়ক করতে এই রুটে নতুন একজোড়া ট্রেন বরাদ্দ করতে যাচ্ছে প্রশাসন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামের এই ট্রেনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু করবে।
গত রোববার (১৭ মে) এই ট্রেন চালুর যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একটি চূড়ান্ত নথি প্রস্তুত করে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে সচল জয়দেবপুর কমিউটারের রেক (কোচ ও ইঞ্জিন) ব্যবহার করেই এই নতুন রুটে এক জোড়া নতুন ট্রেন চালানো সম্ভব। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী ট্রেনের নম্বর হবে ১৩৬ এবং গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী ট্রেনের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩object৫।
নতুন এই ‘অভিযাত্রী কমিউটারে’ মোট ৮টি যাত্রীবাহী কোচ বা বগি যুক্ত থাকবে। প্রতিটি কোচে সর্বোচ্চ ৯৭ জন যাত্রী বসতে পারবেন, যার ফলে পুরো ট্রেনের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ৬০৯টি। ট্রেনটি চলাচলের জন্য গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী জংশনকে ব্যবহার করা হবে।
সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় গোপালগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেবে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’। এটি গোপালগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে। সেখানে মাত্র ৩০ মিনিটের যাত্রা বিরতি ও আনুষঙ্গিক কাজ শেষে রাত ৭টা ১৫ মিনিটে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরতি যাত্রা শুরু করবে। সব ঠিকঠাক থাকলে ট্রেনটি রাত ১০টা ২৫ মিনিটে রাজধানীতে এসে পৌঁছাবে। অর্থাৎ ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ পৌঁছাতে এই ট্রেনের সময় লাগবে মাত্র ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিট।
রেলওয়ের খসড়া পরিকল্পনা অনুসারে, ট্রেনটিতে সাধারণ যাত্রীদের জন্য শোভন এবং ‘মেট্রো টাইপ’ শোভন চেয়ার শ্রেণির বসার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর ট্রেনটি কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, শিবচর, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা এবং মহেশপুর স্টেশন হয়ে গোপালগঞ্জ পৌঁছাবে। এই রুটে ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে প্রতি শনিবার।