
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে আসন্ন ঈদে কোরবানির জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে একটি খাসি ছাগল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতন করে মুখমণ্ডল আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা আহত গৃহবধূ শিমা আক্তারকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গৃহবধূর আত্মীয় হাসান হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সুজন গ্রামের ভুক্তভোগীর শ্বশুরবাড়ি কমরউদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিমা আক্তার পার্শ্ববর্তী কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ চিডুর কন্যা।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে স্বামী রহিম, শ্বশুর মেজবাহ উদ্দিন মেজুসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন শিমার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের যৌতুক এবং কোরবানির জন্য একটি বড় খাসি ছাগল দাবি করে আসছিল। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই দাবি পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন শিমার ওপর নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে তাকে মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আগুন দিয়ে দগ্ধ করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী রহিম, শ্বশুর মেজবাহ উদ্দিন মেজুসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘরে তালা দিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে এ ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।