
সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে জলদস্যু ও ডাকাতদের সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চলমান বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ চলাকালে কোস্টগার্ডের সঙ্গে কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর এক রোমাঞ্চকর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটেছে। দুই দিনব্যাপী চলা এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে বিপুল পরিমাণ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ওয়াকিটকি এবং গোলাবারুদসহ ডাকাত চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (১৫ মে) বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলো— বাগেরহাটের মো. মেহেদী হাসান (২৫) ও মো. রমজান শরীফ (১৯), এবং মো. এনায়েত (২৫)।
তথ্য পেয়ে ২ দিনের সাঁড়াশি অভিযান ও গোলাগুলি
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যু ও বনদস্যুদের চিরতরে হটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামক দুটি জোরালো বিশেষ স্কোয়াড কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চম বারের মতো পরিচালিত ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ এর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই বড় সাফল্য এলো।
মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, কোস্টগার্ডের কাছে গোপন খবর আসে যে, কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর একদল সশস্ত্র সদস্য বাগেরহাট জেলার শরণখোলা থানা সংলগ্ন সুন্দরবনের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খালী খাল এলাকায় অবস্থান করছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার বিকেল ৫টা থেকে কোস্টগার্ডের একটি চৌকস দল ওই দুর্গম এলাকায় টানা দুই দিনের এক বিশেষ অভিযানে নামে।
অভিযান চলাকালে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গল থেকে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে ডাকাতদলের সদস্যরা। আত্মরক্ষার্থে এবং সরকারি জানমাল রক্ষায় কোস্টগার্ডের জোয়ানরাও পাল্টা গুলি ছুড়লে ডাকাতেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় কোস্টগার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে করিম শরীফ বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে ধরে ফেলতে সক্ষম হন।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের খতিয়ান ও স্বীকারোক্তি
আটকদের আস্তানা ও হেফাজত থেকে ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ২টি ওয়াকিটকি এবং ৪টি ওয়াকিটকি চার্জার উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ড কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ৩ অপরাধী নিজেদের দোষ স্বীকার করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের দুর্গম খাটিয়া ও খালে করিম শরীফ বাহিনীর হয়ে ডাকাতি করত। এর পাশাপাশি সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহ করতে যাওয়া নিরীহ জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করার কথাও তারা স্বীকার করেছে।