
কুষ্টিয়ার আলোচিত পীর হত্যা মামলায় অগ্রগতি— এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাতে গোদাগাড়ী উপজেলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেন র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজীব মিস্ত্রি এই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি। তার বাড়ি দৌলতপুর উপজেলা-এর দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরের দারোগার মোড় এলাকায়। পেশায় তিনি একজন কাঠমিস্ত্রি। এ নিয়ে মামলায় এজাহারভুক্ত একজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে শুক্রবার (১ মে) দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রাজীব আত্মগোপনে ছিলেন। প্রথমে পাবনা জেলায় লুকিয়ে থাকার পর পরে রাজশাহী-তে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তিনি একাধিক সিম ব্যবহার করতেন এবং অন্যের মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি গোদাগাড়ীর একটি সেলুনে চুল কাটাতে যান। সেখানেই র্যাব-৫ ও র্যাব-১২-এর যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমের বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বড় ভাই ফজলুর রহমান ১৩ এপ্রিল দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে প্রধান ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদ-কে। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, রাজীব মিস্ত্রি এবং ইসলামপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. শিহাব। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।