
ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সাংবাদিক শাহিবুল ইসলাম পিপুলকে (৩৬) মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার ভাই ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাঙ্গুড়া পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে ভুক্তভোগী সাংবাদিক পিপুল এ ঘটনায় ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পিপুল উপজেলার পাথরঘাটা (রোকনপুর) গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে। তিনি দৈনিক যুগান্তরের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি এবং বাংলা ট্রিবিউনের পাবনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
অভিযুক্ত মো. শরীফ হোসেন (৩৫) ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজের ছোট ভাই।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জেরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পিপুলের ছোট ভাই ইয়াসিন আলী সামীকে (২৩) হাসপাতালপাড়া সংলগ্ন শিশু কুঞ্জ এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় কলেজপাড়া এলাকার ছাত্রদলের ফিরোজ, হাসিব, মারুফ ও আল-আমিনসহ কয়েকজন যুবক। পরে তাকে ভাঙ্গুড়া মহিলা কলেজে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
এ সময় পাবনা শহরে অবস্থান করা সাংবাদিক শাহিবুল ইসলাম পিপুল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ভাঙ্গুড়া থানার ওসিকে জানিয়ে দ্রুত সহায়তা চান। ওসি তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙ্গুড়া থানার এসআই আল-আমিন হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিক পিপুলের ছোট ভাইকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
সাংবাদিক শাহিবুল ইসলাম পিপুল বলেন, ওই ঘটনা নিয়ে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পোস্টকে কেন্দ্র করেই পরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাহার নামে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সাংবাদিক পিপুলের অবস্থান জানতে চান এবং ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
এরপর তিনি ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনে পৌঁছালে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চান। তিনি পরিচয় দিলে ওই দুই ব্যক্তি বলেন, ‘আমরাই তোর ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলাম, তুই ফেসবুকে কী লিখেছিস’, বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।
সাংবাদিক পিপুল সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় আরেকটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে নিজেকে ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজের ছোট ভাই শরীফ বলে পরিচয় দেন। তিনি জানতে চান, ‘তুই কোথায় আছিস।’ নিজের অবস্থান ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ডে বলে জানালে শরীফ ও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন এসে সাংবাদিক পিপুলের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে কৌশলে সেখান থেকে দৌঁড়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়ে তিনি রক্ষা পান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ভাঙ্গুড়া থানার এসআই আল-আমিন হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে এ ঘটনায় সাংবাদিক পিপুল বাদী হয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় শরীফের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত শরীফ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ওর ভাই আমাদের তিনজন ছেলেকে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। আজ তারা সামীকে জিজ্ঞাসা করছিল ওই সময় তাদের ক্ষতি করেছিল কেন। খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি থানা-পুলিশও সেখানে আছে। পিপুলের ভাইকে একটা টোকাও দেওয়া হয়নি। অথচ সে ফেসবুকে আমাদের বেদেপাড়ার ছেলেপেলে বলে কটাক্ষ করে পোস্ট দিয়েছে। তাকে ফেসবুক থেকে পোস্টটি ডিলিট করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। এটা নিয়ে ছেলেপেলেরা রাগান্বিত ছিল, একটু হাতাহাতি হয়েছে।
ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু আমার ভাই মারামারি করার মতো ছেলে না। আমি অন্যায়কে কখনও প্রশ্রয় দিই না। আপন ভাই হলেও ছাড় দিই না। ঘটনার সঙ্গে আমার ভাই জড়িত না। ছাত্রদলের ছেলেদের সঙ্গে আগের ছাত্রলীগের একটি ঝামেলা ছিল। সেটা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। আবার সেটার সমাধানও হয়ে গেছে পুলিশের উপস্থিতিতে। মূলত পিপুল ফেসবুকে নাকি জাতি তুলে একটি পোস্ট দিয়েছিল। সেটা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারামারি হয়নি। আমি দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করছি।