
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে তৈরি হওয়া বিতর্ক শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছে আইনি পদক্ষেপে। নতুন করে গঠিত জেলা কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে এবার মামলা করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে খাগড়াছড়ি সদর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই মামলা দায়ের করা হয়। পরে গত রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কায় কিসলু।
মামলায় মোট ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি মো. মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জিৎজয় ত্রিপুরা এবং কমিটির অন্যান্য ৩৯ জন নেতার নাম রয়েছে। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের এক নেতার নামও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে মামলায় রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা এবং এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ৩৯ সদস্যের ওই কমিটিতে মনির হোসেনকে সভাপতি এবং জিৎজয় ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল সদর উপজেলার কমলছড়ি ইউনিয়নের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ওই কমিটির নেতাদের একত্রিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এই ঘটনার পেছনে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শুভমঙ্গল চাকমার সম্পৃক্ততার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সংগঠিত কার্যক্রম এবং সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নের শঙ্কা থাকায় এ মামলা করা হয়েছে। তদন্ত ও অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।