
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ সাত দিনের ছুটি শেষে আজ সোমবার কর্মব্যস্ততা শুরু হলেও দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল কমেনি। বরং ছুটির শেষ দুই দিনে সৈকত ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। শহরের কলাতলী পর্যটন জোনসহ মেরিন ড্রাইভ এলাকার পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট বর্তমানে শতভাগ বুকড অবস্থায় রয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রোববার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা কক্সবাজারমুখী হয়েছেন এবং এই জনস্রোত আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতের প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে পর্যটকদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কেউ সমুদ্রের নোনা জলে মেতেছেন, আবার কেউ বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত উপভোগ করছেন। সৈকতের বাইরে হিমছড়ির ঝরনা, ইনানী পাথর সৈকত, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এবং মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরেও পর্যটকদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। পর্যটকের এই অতিরিক্ত চাপের কারণে কলাতলী মোড়, বাস টার্মিনাল ও মেরিন ড্রাইভে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পর্যটন ব্যবসায়ী আবদু রহমান জানান, প্রতি বছরের মতো এই বছরেও প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে, কিন্তু পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক পর্যটক ভালো সময় কাটাতে পারছে না। এই ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানান তিনি।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করতে এবং সেবা নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছেন জেলা প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই আদালতগুলো নিয়মিত তদারকি করছে, যাতে পর্যটকরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।