
রমজান মাসের কারণে আপাতত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে রোজা শেষ হলেই আবার কঠোর অভিযান শুরু হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার-এ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “রমজানের জন্য চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন বন্ধ রেখেছি। রোজার পর চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হবে। তখন যেন কাউকে তদবির না করার অনুরোধ করেন।”
সভায় তিনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত-এর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সারাবিশ্বের মানুষ কক্সবাজারকে চেনে সমুদ্র সৈকতের শহর হিসেবে। যতটুকু জানতে পেরেছি- এই সমুদ্র সৈকত এখন অবৈধ দখলদার কারণে আবর্জনায় পরিণত হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিচ ক্লিন করতে হবে।”
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা জানেন কারা এই কাজে জড়িত। অ্যাকশনে যাওয়ার আগে তাদের নিয়ন্ত্রণ করুন।”
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আ. মান্নান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে অনলাইন জুয়া ও মাদক বড় জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে এবং যেকোনো উপায়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদক প্রতিরোধে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।
সভায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার ও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব তোলা হয়। বিশেষ করে বান্দরবান অংশে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
এছাড়া টেকনাফ-এর পাহাড়ি এলাকায় ডাকাত ও অপহরণকারীদের দমনে যৌথবাহিনীর একটি ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। এতে বলা হয়, সরকার চাইলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, তার দপ্তরের অধীনে বর্তমানে ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পে ১২ লাখের বেশি নিবন্ধিত রোহিঙ্গার পাশাপাশি দেড় লাখেরও বেশি অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। তাদের ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়, যা বৈদেশিক সহায়তা থেকে আসে। তবে গত বছর এই সহায়তা প্রায় অর্ধেকে নেমে গিয়ে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমার চাকরি দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে হলেও আমাকে ৭০ শতাংশ কাজ করতে হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে। আইনশৃংখলা রক্ষার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভর করতে হয়। তাই আমি চাইলেই কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।”
রোহিঙ্গা সংকটের বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে আলাদা একটি কমিটি গঠনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অনুরোধও জানান তিনি।