
নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পেতে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় ‘তারেক জিয়ার একটা কার্ড’ দেওয়ার দাবি তুলেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নয়—এমন একটি কার্ড দেওয়া হোক, যাতে চাঁদাবাজ এলে পকেট থেকে বের করে দেখানো যায় যে ‘তারেক জিয়ার একটা কার্ড’ আছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘গুম, খুন, ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন থেকে বাঁচতে একটা কার্ড দেন। এতে সকলে খুশি হবে। আমরা ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে নিরাপত্তার কার্ড চাই। চাঁদাবাজি, জুলুম ও দুর্নীতি থেকে বাঁচার জন্য যদি কোনো কার্ড প্রচলন করেন তাহলে আমি নিজেও ধানের শীষে ভোট দেওয়ার চিন্তা করতাম।’
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘দিল্লিতে বসে হুমকি দিচ্ছেন, ষড়যন্ত্র করছেন। একবার হেলিকপ্টারে দিল্লি পালিয়ে গেছেন, কিন্তু দ্বিতীয়বার সেই সুযোগ পাবেন না। অনেক রক্তের দাগ এখনো শুকাইনি, অনেক মরদেহের পরিচয়ও এখনো শনাক্ত হয়নি। এর মধ্যে একটি বড় দল নির্বাচন চেয়ে বসলেন। আমরা বলেছিলাম একটু রক্তের দাগ শুকাতে দেন, শহীদদের হত্যার বিচারের পদক্ষেপ নিতে দেন। এই রাষ্ট্রে যেন আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে না পারে সেই সংস্কারগুলো করতে দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন নির্বাচন শুরু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচন ভণ্ডুল করার জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছে। আপনারা এতো দ্রুত চেহারা বদলাবেন ভাবতে পারিনি। আপনাদের নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করেছেন, কারণ আপনারাই নাকি নতুন বাংলাদেশ গড়বেন। এতে আমরাও খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার ধাপে ধাপে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে আমরা মর্মাহত হয়েছি।’
নির্বাচনী অঙ্গীকারের বিষয়ে মঞ্জু বলেন, এবারের নির্বাচনে জনগণের রায় পেলে ফেনীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ জনগুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে নতুন ধারার রাজনীতি প্রয়োজন, পুরোনো রাজনীতির কারণে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এর আগে সকাল ৮টা থেকে জনসমাবেশ শুরু হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া ১১ দলীয় জোটের শরিক দল গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন। জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহীম।