
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে রেজাউল করিমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজাকে কেন্দ্র করে সেখানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের বিপুল উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়া আগামী শুক্রবার শেরপুরে জামায়াত ইসলামীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার ঝিনাইগাতীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন রেজাউল করিম। প্রথমে তাকে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের পর থেকেই ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল। জামায়াত নেতার মৃত্যুসংবাদ ছড়ানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শ্রীবরদী বাজারে যৌথ বাহিনীর টহল দেখা গেছে।
বিকেল ৫টায় জানাজাকে কেন্দ্র করে সরকারি কলেজ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় জামায়াত নেতারা সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঝিনাইগাতী ইউএনও আশরাফুল আলমের প্রত্যাহার দাবি করেন। পাশাপাশি আগামী শুক্রবার শেরপুরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
জানাজায় শত শত মুসল্লি অংশ নেন। এ সময় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মো. ছামিউল হক ফারুকী, জেলা জামায়াতের আমীর হাফিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ আসনের মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা বলেন, “ঝিনাইগাতী প্রশাসন যে ভূমিকা পালন করেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে। এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। সেদিন প্রশাসন একটি দলের হয়ে কাজ করেছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝিনাইগাতী ইউএনওর প্রত্যাহার দাবি করছি। কারণ তার পক্ষে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, জানাজার সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শ্রীবরদীতে ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন আছে।