
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যাকাণ্ড ও র্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ নিয়ে মামলাটিতে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে আটক করা হলো।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে র্যাবের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার ও সোমবার চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি হলেন মো. মিজান (৫৩) ও মো. মামুন (৩৮)। এর মধ্যে মিজান র্যাব কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তার বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি এলাকায়। অন্যদিকে মামুনের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায়। মামুনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যক্তিদের সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম জানান, গত দুদিনে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ ও খুলশী এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসব গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলাটিতে মোট ছয়জনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে সীতাকুণ্ডে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। একই ঘটনায় আহত তিনজন র্যাব সদস্যকে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
র্যাব কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় ২২ জানুয়ারি সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি ধরতে গেলে মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় আটক এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চারজন র্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।