
চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন অন্তত ১০ জন সাংবাদিক। তারা ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার ড্রিম হলিডে পার্কে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ‘ফ্যামিলি ডে’ অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যার দিকে সাংবাদিকরা পার্কের সামনে রাখা বাসে উঠতে গেলে একদল ব্যক্তি তাদের কাছে টাকা দাবি করে। কী বাবদ টাকা দিতে হবে জানতে চাইলে তারা রাস্তার পাশে বাস রাখার জন্য ‘পার্কিং ফি’ দাবি করে।
এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন, সরকারি সড়কের পাশে বাস রাখার জন্য কেন টাকা দিতে হবে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং গুলি করার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি উত্তেজিত হয়ে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
হামলায় গুরুতর আহত এস এম ফয়েজ, শহিদুল ইসলাম শাহেদ, মহসিন কবির ও সাখাওয়াত কাওসারসহ অন্যদের নরসিংদী ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই নরসিংদীর পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় আধাঘণ্টা সময় নেওয়ায় হামলাকারীরা ততক্ষণে বেপরোয়া আচরণ চালানোর সুযোগ পায়।
এ বিষয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ–আল–ফারুক জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, “এই ঘটনায় সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হবে।” একই সঙ্গে হামলায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।